মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে .ভোলায় টানা দুই মাসের জাটকা সংরক্ষণ অভিযান

প্রথম পাতা » এক্সক্লুসিভ » মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে .ভোলায় টানা দুই মাসের জাটকা সংরক্ষণ অভিযান
মঙ্গলবার, ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩



খলিল উদ্দিন ফরিদ।।ভোলাবাণী।। মধ্য রাত থেকে শুরু হচ্ছে ভোলার মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীতে টানা দুই মাসের অভিযান। জাটকা সংরক্ষণ ও বিভিন্ন প্রজাতির মাছের প্রজনন বৃদ্ধির জন্য মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর অভয়াশ্রম গুলোতে সকল ধরনের জালফেলা ও মাছ ধরার উপর সম্পুর্ণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সরকার।

ভোলার মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া এলাকার জনাতা ঘাট এলাকায় তোলা ছবি

১ মার্চ থেকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত টানা দু-মাস মেঘনা ও তেতুলিয়া নদীর ১শ’ ৯০ কিলোমিটার অর্থাৎ ভোলার ভেদুরিয়া থেকে পটুয়াখালীর চররুস্তম পর্যন্ত তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এবং ভোলার ইলিশা থেকে মনপুরার চরপিয়াল পর্যন্ত মেঘনা নদীর ৯০ কিলোমিটার এলাকা অভায়াশ্রম ঘোষনা করা হয়েছে। এই সময়ে নদীতে থাকা ইলিশের পোনা অর্থাৎ জাটকা ইলিশ বড় হওয়ার পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ডিম ছাড়তে চলে আসে অভায়াশ্রমে। সংগত কারনেই এ সময়ে নদীতে মাছ ধরার প্রতি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এমনকি নিষেধাজ্ঞা অমান্য কারীর বিরুদ্ধে মৎস্য আইনে দুই মাস থেকে সর্বোচ্চ দুই বছর পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাই অভিযানকে সফল করতে জেলা মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি পুলিশ, কোস্টগার্ড ও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এক যোগে মাঠে কাজ করছে।এদিকে নদীতে টানা দুই মাসের অভিযান শুরু হলেও বিগত বছর গুলোর মতো এবার অভিযানের শুরুতে জেলেদের জন্য করা হয়নি কোন ধরনের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা। এতে করে অন্যান্য বাবের মতো এবারের অভিযানেও জেলেদের যেন চিন্তার শেষ নেই। সাধারণ জেলেদের অভিযোগ, প্রতি বছরই অভিযান শুরু হওয়ার আগে জেলেদের জন্য কোন ধরনের পূণর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয় না। যে পরিমান চাল দেয় তাও অভিযানের শেষের দিকে। অভিযান দেয়ার আগেই যদি তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দেয়, তাহলে শুধু দুই মাস কেন এর চেয়ে বেশি সময় ধরে অভিযান থাকলেও কোন জেলেকেই না খেয়ে থাকতে হয় না। এমনকি জীবনের ঝুকি নিয়ে কোন জেলেকেই নদীতে নামতে হতো না।

সরেজমিনের গিয়ে দেখা যায়, অভিযানকে সফল করতে মেঘনা ও তেতুলিয়ার নদীর অধিকাংশ জেলেরাই তাদের জাল সাবার গুছানোর কাজে ব্যস্ত সময় পর করছেন। আবার কোন জেলেকে নদীতে দেখা গেলেও রাত ১২টা বাজার আগেই তারাও নদী থেকে তাদের জাল নৌকা নিয়ে সরিয়ে রাখবে নিরাপদে। তবে নিষেধাজ্ঞার শুরু হওয়ার প্রথম থেকেই জেলেদের পুনর্বাসনের জন্য যে কোন ধরনের ব্যবস্থার করতে সরকারের প্রতি তারা জোর দাবী জানান।

ভোলার মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ সাকুচিয়া এলাকার বাসিন্দা মাহমুদ মাঝি বলেন, আমরা দিন আনি দিন খাই। একদিন নদীতে না গেলে আমাদের হয়তো পেটে ভাত জোটাতেই কষ্ট হয়ে যায়। তার মধ্যে আবার দুই মাসের অভিযানে আমাদের মতো গরীব জেলেদের জন্য সরকার কোন ব্যবস্থা না করে আমাদেরকে অনেক ভোগান্তিতে ফেলে দিয়েছে।

মাঝি আবুল হাসেম বলেন, অভিযান শুরু হলে কোন জেলেকে সরকারের পক্ষ থেকে চাল বা কোন উপটকন দেয়া হয়নি। প্রতিবছরই অভিযান শেষ হওয়ার দুই থেকে আড়াই মাস পরে জেলেদের পুনরবাসনের চাল দেয়া হয়। তা না করে অভিযানের পূর্বে এ চাল দিলে জেলেরা তাদের পরিবার পরিজন নিয়ে সুখ শান্তিতে চলতে পারতো। ইলিশা এলাকার লোকমান মাঝি বলেন, আমরা যারা জেলে পেশায় আমি তারা অন্য কোন পেশায় গিয়ে কাজ করতে পারি না। তাই এ সময় গুলোতে কোন ভাবে ধার দেনা করে আমাদেরকে চলছে হয়। যদি ঠিক ভাবে আমাদেরকে চাল ডাল দেয়া হতো তাহলে আর কোন সমস্যা হতো না।

শেষ বিকালে মেঘনায় মাছ ধরছে চরফ্যাশনের জেলেরা

এদিকে নিষেধাজ্ঞার এ সময়টিতে দেশের বৃহত্তর স্বার্থের কথা বিবেচনা করে প্রত্যেক জেলেকে তাদের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করা কথা বলে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোল্লা এমদাদউল্লাহ বলেন, এ দুই মাস যদি জেলেরা একটু কষ্ট করে নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকে, আগামী দিন গুলোতে এ সকল জেলেদের জালেই ধরা পরবে ঝাকে ঝাকে ইলিশ। কেননা আজকের এক একটি ইলিশের পোনা দুই মাস যেতেই বড় আকৃতিতে পরিনত হবে। তখন এ সকল জেলেরাই সে মাছ আহরন করে তারাই লাভবান হবে।তবে জেলেদের পুনর্বাসের বিষয়টি নিয়ে হতাশ না হওয়ার কথা বলে ভোলা জেলা প্রশাসক মোঃ তৌফিক-ই-লাহী চৌধুরী বলেন, এরই মধ্যে জেলেদের বরাদ্ধকৃত চালের ডিউ আমাদের হাতে আসার সাথেই তা আমার জেলার প্রতিটি উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে ইউনিয়ন গুলোতে পৌছে দেয়া হয়েছে। কয়েক দিনের মধ্যেই এ চাল জেলেদের কাছে ৪০ কেজি করে চার মাস দেয়া হবে ১৬০ কেজি চাল।

বাংলাদেশ সময়: ২১:৩০:৩৮   ৬৮ বার পঠিত  |




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

এক্সক্লুসিভ’র আরও খবর


ভোলাবাসীকে ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মোঃ আকতার হোসেন
ভোলাবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম নবী আলমগীর
ভোলাবাসীকে পবিত্র ঈদ-উল-ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মিজানুর রহমান শাহিন
অসহায়দের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান ভোলাবাসীকে পবিত্র ঈদ উল ফিতরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মজনু মোল্লা
চরফ্যাশন মনপুরাবাসীকে পবিত্র ঈদ উল ফিতরের শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানিয়েছেন এমপি জ্যাকব ॥
ভোলায় ৩ শতাধিক অসহায় দুস্থ পরিবারের মুখে হাসি ফুটালো বিবা’র মানবতার দেয়াল
দক্ষিণ আইচায় স্কুল ছাত্র নয়নের রিমোট কন্ট্রোল নিয়ন্ত্রিত লঞ্চ ভাসছে পানিতে
ভোলার বাজারে সরকার নির্ধারিত দামে বিক্রি হচ্ছে না বেশীরভাগ পন্য
বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আব্দুর রউফ’র ৮ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ
ভোলায় রমজান উপলক্ষে ইফতার ও খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করলেন কাঞ্চন-ফাতেমা ফাউন্ডেশন

আর্কাইভ