বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ট ব্যবসায়ীসহ গ্রাহকবিদ্যুত বিহীন মনপুরা ॥ তীব্রতাপদাহে ভোগান্তিতে সাধারন মানুষ

প্রথম পাতা » জাতীয় » বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ট ব্যবসায়ীসহ গ্রাহকবিদ্যুত বিহীন মনপুরা ॥ তীব্রতাপদাহে ভোগান্তিতে সাধারন মানুষ
শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪



মোঃ ছালাহ উদ্দিন।।ভোলাবাণী।।মনপুরা প্রতিনিধি॥

মনপুরা বিদ্যুতের আলো থেকে বঞ্চিত লক্ষাধিক মানুষ। তীব্রতাপদাহে অতিষ্ট ,স্কুলের ছাত্র-ছাত্রী,ব্যাবসায়ী,গ্রাহক, হাসপাতালের রোগীসহ সাধারন মানুষ। সরকার শতভাগ বিদ্যুতের আওতায় আনার ঘোষনা করলেও মনপুরা এখনও ২৪ ঘন্টা বিদ্যুতের আওতায় আসেনি। কেবল মাত্র উপজেলার আশপাশের এলাকায় দৈনিক ২ ঘন্টা বিদ্যুত পেয়ে থাকে তাও রাতের বেলায় রুটিন মাফিক। বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ট ব্যবসায়ীসহ সাধারন মানুষ। বঙ্গবন্ধুর চিন্তনিবাস খ্যাত মনপুরায় জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুত দিয়ে আলোকিত করার জন্য দাবী করছেন ¯’ানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সকল শ্রেনীর পেশার মানুষ।

 

বিদ্যুত অফিস চিত্র

২৪ ঘন্টায় জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুতের দাবীতে দীর্ঘদিন আন্দোলন করে আসছেন নাগরিক কমিটিসহ সকল শ্রেনীর হাজারো মানুষ। সাধারন মানুষের একটাই দাবী জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুত। সৌরবিদ্যুতের আলো মিটমিট করে জ্বলে। এটা কোন শক্তিশালী বিদ্যুত নয়। সাধারন বিদ্যুত খরচের চেয়ে এই বিদ্যুতের খরচ অনেক বেশী। ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপের একমাত্র উপজেলা মনপুরা যেখানে এখনও ২৪ ঘন্টার মধ্যে ২ ঘন্টা বিদ্যুত পায় তাও রুটিন মাফিক। মুজিববর্ষে ন্যায্যমূল্যে ঘরে ঘরে বিদ্যুত পোঁছে দেওয়ার কথা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। দ্রুত মনপুরায় জাতীয গ্রীডে বিদ্যুত দিয়ে আলোকিত করার দাবী জানিয়েছেন এখানকার সচেতন মহল।

খোঁজ নিয়ে জানাযায়, ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানী লিঃ উপজেলা সদর ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন রাতের বেলায় দৈনিক ৬ ঘন্টা বিদ্যুত দিয়ে আসছে। গত জুলাই মাসের মাঝামাঝি সময় ১হাজার কেভিএ (১ মেঘাওয়াট) উৎপাদন ক্ষমতা সম্পন্ন মেশিনটি ভাষ্ট হয়ে যায়। যার ফলে গ্রাহকের বিদ্যুতের চাহিদা পুরন করতে পারছেনা বিদ্যুত বিভাগ। বিকল্প হিসেবে ৬৫০ কেভিএ ১টি ও ৫০০ কেভিএ ২টি পুরাতন মেশিন চালু করে বিদ্যুত সরবরাহ করলেও তা গ্রাহকের চাহিদা মোটেও পুরন করতে পারছেনা। ৬ ঘন্টার বিপরিতে উপজেলার আশে পাশের এলাকায় ২ ঘন্টা বিদ্যুত সরবরাহ করে বিদ্যুত বিভাগ। ৩টি পুরাতন মেশিনের মধ্যে ১টি মেশিন চালু করে কোন মতে উপজেলার প্রধান বাজার হাজিরহাট ও উপজেলার আশ পাশ এলাকায় দৈনিক ২ ঘন্টা বিদ্যুত দিয়ে যা”েছ বিদ্যুত বিভাগ। যার ফলে পুরাএলাকা এখন অন্ধকার। বিদ্যুতের এহন ভেলকিবাজিতে অতিষ্ট ব্যবসায়ীসহ সাধারন মানুষ। গত ৭ই এপ্রিল কালবৈশাখী ঝড়েরর পর থেকে পুরো অন্ধকারে মনপুরা।
বিদ্যুত না থাকার কারনে ব্যবসা-বানিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে বিরুপ প্রভাব পড়েছে। ব্যবসায়ী ও গ্রাহকদের দোকানের ফ্রিজ,টিভিসহ লক্ষ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে। অধিকাংশ ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে শিক্ষার্থীদের। বিদ্যুত না থাকায় তারা রাতের বেলায় পড়ালেখা করতে বেশ অসুবিধা পড়তে দেখা গেছে। সরকারী কার্যক্রম চালাতেও বেশ হিমশিম খেতে হয়েছে ।

উপজেলার ৩টি ইউনিয়নে সোলার মিনি গ্রিডের বিদ্যুত রয়েছে। সোলার মিনিি গ্রিডের উৎপাদিত বিদ্যুত তাও গ্রাহকরা ঠিকমত পা”েছনা। সকলের একটাই দাবী জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুত।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মনপুরা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেনীর ছাত্রী তাসনিয়া নিশাত কপি(বাতির ) আলোতে খুব কষ্ট করে পড়া-লেখা করছে। হাজির হাট মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেনীর ছাত্র মোঃ সাঈদ আবদুল্লাহ নিহাল হারিকেনের আলোতে পড়া-লেখা করতে দেখা গেছে। এই চিত্র এখন উপজেলার প্রায় সব বাড়ীতে। ব্যবসায়ীরা সোলার বাতির আলোতে বেচাকিনা করতে দেখা যা”েছ। বিদ্যুত না থাকায় সবাই কষ্ট করে দিন পার করছেন। তীব্র গরমে বিদ্যুত না থাকায় চরম ভুগান্তিতে সাধারন মানুষ।
বিদ্যুত গ্রাহক নজরুল ,মোঃ বেলাল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, আমরা বিদ্যুত পাইনা । অথচ প্রতিমাসে বিদ্যুত বিল পরিশোধ করতে হয়। কবে বিদ্যুত পাবো তাও জানিনা।
হাজিরহাট বাজার ব্যবসায়ী মোঃ মিজান অভিযোগ করে বলেন, আমরা মাত্র রাতের ১০টার সময় ১ঘন্টার জন্য বিদ্যুত পাই। বিদ্যুতের অভাবে আমাদের দোকানের ফ্রিজ নষ্ট হয়ে গেছে। বাজারের সকল ব্যবসায়ীদের একই অব¯’া। কবে বিদ্যুত পাবো তা বলতে পারেনা বিদ্যুত অফিস।
হাজির হাট মডেল সরকারি মধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন বলেন, বিদ্যুতের অভাবে আমাদের দৈনন্দিন কাজকর্ম করতে সমস্যা হ”েছ। শিক্ষার্থীদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা বিদ্যুতের কারনে ঠিকমত পড়ালেখা করতে পারছেনা। আমরা তাড়াতাড়ি বিদ্যুতের এই অব¯’ার পরিবর্তন চাই। জাতীয় গ্রীডের বিদ্যুত চাই।

এব্যাপারে আবাসিক প্রকৌশলী মোঃ ফরিদ বলেন, আমাদের ৩টি মেশিন নষ্ট হয়ে গেছে। ১টি মেশিন দিয়ে আমরা পারটাইম এলাকা ভিত্তিক বিদ্যুত দিয়ে যা”িছ। আমরা মেশিন মেরামতের কাজ করছি। নতুন একটি মেশিন শীগ্রই আসবে। মেশিন আসলে আমরা আবার আগের মতো বিদ্যুত দিতে পারবো। গ্রাহকদের একটু ধৈর্য দরতে হবে। আমাদের আন্তরীকতার কোন ঘাটতি নেই। এ বিষয়ে আমাদের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন।

এব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার(ইউএনও) জহিরুল ইসলাম বলেন,একটি উপজেলার উন্নয়ন অনেকাংশে বিদ্যুতের উপর নির্ভর করে। বিদ্যুত না থাকায় আমাদের অফিসের কার্যক্রম চালাতে বেগ পেতে হ”েছ। চেষ্ঠা করে যা”িছ দ্রুত বিদ্যুত সমস্যা সমাধান করতে ।

বাংলাদেশ সময়: ১৬:২৭:৩৮   ১০৬ বার পঠিত  |




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

জাতীয়’র আরও খবর


ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
তৃণমূল থেকে উন্নয়নই আ.লীগের মূল লক্ষ্য : প্রধানমন্ত্রী
অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিক্ষা অবৈতনিক করা হচ্ছে
কাউকে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব ক্ষুণ্ন করতে দেব না : প্রধানমন্ত্রী
বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে অতিষ্ট ব্যবসায়ীসহ গ্রাহকবিদ্যুত বিহীন মনপুরা ॥ তীব্রতাপদাহে ভোগান্তিতে সাধারন মানুষ
আজ পহেলা বৈশাখ
সবার সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করুন: প্রধানমন্ত্রী
জনগণের সেবা নিশ্চিত করতে , ভোটের চিন্তা থাকবে না : প্রধানমন্ত্রী
আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে এডিবির আরও সহায়তা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
স্বাধীনতা দিবসে স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

আর্কাইভ