ভোলার কৃষকরা ঝুঁকছেন ক্যাপসিকাম চাষে

প্রথম পাতা » কৃষি ও প্রকৃতি » ভোলার কৃষকরা ঝুঁকছেন ক্যাপসিকাম চাষে
বৃহস্পতিবার, ২৮ মার্চ ২০২৪



বিশেষ প্রতিনিধি ॥ভোলাবাণী।।

ভোলার বিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলে কৃষকরা এ বছর লাভজনক ফসল ক্যাপসিকাম চাষে ঝুঁকছেন। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষে তেমন লাভবান না হওয়ায় এবার কৃষকরা ক্যাপসিকাম চাষে ঝুঁকেছেন বলে দাবি করেন। তারা জানান, ক্যাপসিকাম ক্ষেতে পোকা-মাকড়ের তেমন আক্রমণ না হওয়ায় তেমন পরিশ্রমও করতে হয়না। কম খরচে অধিক লাভজনক ক্যাপসিকাম চাষ।

 

ভোলার কৃষকরা ঝুঁকছেন ক্যাপসিকাম চাষে

ভোলা সদর উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের বিচ্ছিন্ন মাঝের চর ও দৌলতখান উপজেলার মদনপুর চরের কৃষকরা জানান, ভোলার বিছিন্ন চরাঞ্চলে প্রতি বছরই বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করছেন তারা। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে অসময়ে বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি হানা দেয় ক্ষেতে। এতে বেশিভাগ সময়ই লাভের চেয়ে লোকসান গুনতে হয় কৃষকদের। তাই এবার লোকসান কাটিয়ে ঘুরে দাঁড়ানোর জন্য বেশিভাগ কৃষকই ক্যাপসিকাম চাষে ঝুঁকছেন।

মাঝের চরের কৃষক মোঃ মনির হোসেন, মোঃ ইউসুফ ও মদনপুর চরের কৃষক মোঃ আকবর ও ইসমাইল হোসেন জানান, চরাঞ্চলে তারা আগে ব্যাপক হারে বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করতেন। কিন্তু জোয়ারের পানি, লবণাক্ত পানি ও বৃষ্টির পানির ক্ষতির কারণে তাদের তেমন একটা লাভ হতো না। এজন্য তারা চরে অন্যান্য কৃষকদের দেখাদেখি এ বছর ক্যাপসিকাম চাষ করেছেন। ক্যাপসিকাম রোগ-পোকা মাকড়ের আক্রমণ তেমন না থাকায় কম খরচে ও কম পরিশ্রমে ক্ষেতে ব্যাপক ফলন হওয়ায় খুশি তারা। এ পর্যন্ত তারা প্রত্যেকে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকার ক্যাপসিকাম বিক্রি করেছেন।

তারা আরও জানান, সবজি চাষে ক্ষতি হলে ঘুড়ে দাঁড়ানো অনেকটাই অসম্ভব হয়ে পরে। কিন্তু ক্যাপসিকামে ক্ষতি হলেও ঘুরে দাঁড়ানো সহজ হয়। এজন্য মাঝের চর ও মদনপুর চরে কৃষকরা ক্যাপসিক্যাম চাষে ঝুঁকছেন। আগে দুই চরে এক থেকে দেড়শ কৃষক ক্যাপসিকাম চাষ করলেও এ বছর চাষ করেছেন ৮০০ থেকে ৯০০ কৃষক।

 

ভোলার কৃষকরা ঝুঁকছেন ক্যাপসিকাম চাষে

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক হাসান ওয়ারিসূল কবীর জানান, ক্যাপসিকাম বাজারে চাহিদা ও দাম বেশি হওয়ায় কৃষকরা দিন দিন চরাঞ্চলের কৃষকরা এটি চাষে ঝুঁকছেন। যার কারণে ওই দুই চরে ক্যাপসিকাম চাষের আবাদ বেড়েছে। এ বছর জেলায় প্রায় ১০০ একর জমিতে ক্যাপসিক্যামে আবাদ হয়েছে। এছাড়া এ বছর কৃষকরা ক্যাপসিকাম চাষ করে সফল হওয়ায় আগামীতে আবাদের পরিমাণ ৩ থেকে ৪ গুণ বাড়বে বলে মনে করেন তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ৭:৫৪:০৫   ৭৫ বার পঠিত  |




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

কৃষি ও প্রকৃতি’র আরও খবর


ভোলার কৃষকরা ঝুঁকছেন ক্যাপসিকাম চাষে
ফুলের সৌন্দর্যে মুগ্ধ এলাকাবাসী মনপুরায় সূর্যমুখী ফুল চাষে আগ্রহ বাড়ছে কৃষকের
ভোলায় আন্তর্জাতিক বন দিবস পালিত
ভোলায় তরমুজের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৯৩৬ হেক্টর জমিভোলায় আমনের বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আর্থিক সহযোগীতায় মনপুরায় বর্ষাকালীন তরমুজ চাষে সাইফুলের সাফল্য ॥
মনপুরায় হোম লেভেল প্রশিক্ষন কর্মশালা অনুষ্ঠিত ॥
প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বজ্রপাত রোধে ভোলায় ৫০ হাজার তাল বীজ বপণ কর্মসূচির উদ্বোধন
আমন আবাদে ভোলায় ১১ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক সরকারি প্রণোদনা পাচ্ছেন।
গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষে লাভ কৃষকের

আর্কাইভ