শিরোনাম:
ভোলা, রবিবার, ২৫ জুলাই ২০২১, ১০ শ্রাবণ ১৪২৮

Bholabani
বৃহস্পতিবার ● ১৫ জুলাই ২০২১
প্রথম পাতা » ধর্ম » কোরবানির ইতিহাস তাৎপর্য্য ও ফযিলত
প্রথম পাতা » ধর্ম » কোরবানির ইতিহাস তাৎপর্য্য ও ফযিলত
৬৪ বার পঠিত
বৃহস্পতিবার ● ১৫ জুলাই ২০২১
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

কোরবানির ইতিহাস তাৎপর্য্য ও ফযিলত

ভোলাবাণী ইসলামিক ডেক্সঃ বছর ঘুরে ত্যাগের সুমহান বার্তা নিয়ে পবিত্র ঈদুল আজহা এসেছে। একে আমরা কোরবানির ঈদও বলে থাকি। কোরবান শব্দটি আরবি, অর্থ নৈকট্য লাভ করা, ত্যাগ করা, উৎসর্গ করা ইত্যাদি। শরিয়তের পরিভাষায় আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে তার দেওয়া বিধান অনুযায়ী পশু জবাই করাকে কোরবানি বলে। তবে এ ত্যাগ ও উৎসর্গ হতে হবে একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের জন্য।

---

এ প্রসঙ্গে কোরআনে কারিমের সুরা আল কাউসারে ইরশাদ হয়েছে, ‘তোমরা রবের জন্য নামাজ আদায় করো ও কোরবানি করো।’ কোরআনে অন্যত্র আর ও ইরশাদ হয়েছে, ‘বলুন! নিশ্চয় আমার নামাজ, আমার কোরবানি, আমার জীবন ও মৃত্যু একমাত্র বিশ্বজাহানের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।’ সুরা আনআম : ১৬২মানব ইতিহাসের শুরু থেকেই কোরবানির বিধান ছিল। ইতিহাসের প্রথম কোরবানি ছিল পৃথিবীর প্রথম মানব হজরত আদম (আ.)-এর দুই ছেলে হাবিল ও কাবিলের। তাদের দেওয়া কোরবানির বর্ণনা সুরা মায়েদার ২৭ নম্বর আয়াতে বর্ণিত আছে। ইরশাদ হয়েছে, ‘আর তাদের আদম (আ.)-এর দুই ছেলের কাহিনী সঠিকভাবে শুনিয়ে দাও। তারা দুজন কোরবানি করলে একজনের কোরবানি কবুল করা হলো, আরেকজনের হলো না।’

তবে আমরা যে কোরবানি পালন করি, তার প্রেক্ষাপট ভিন্ন। আমরা কোরবানি পালন করে থাকি হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত হিসেবে। এ প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে এক সাহাবি প্রশ্ন করেন, ‘হে আল্লাহর রাসুল! এ কোরবানি কী? জবাবে রাসুল (সা.) বললেন এটা তোমাদের পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)-এর সুন্নত।’ ইবনে মাজাহ

হজরত ইবরাহিম (আ.) ছিলেন সর্বাবস্থায় আল্লাহর একনিষ্ঠ অনুগত বান্দা। যার স্বীকৃতি মহান আল্লাহ পবিত্র কোরআনে নিজে দিয়েছেন। সুরা আন নাহলের ১২০-১২২ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘প্রকৃতপক্ষে হজরত ইবরাহিম একাই ছিল একটি পরিপূর্ণ উম্মত, আল্লাহর হুকুমের অনুগত এবং একনিষ্ঠ। সে কখনো মুশরিক ছিল না। সে ছিল আল্লাহর নেয়ামতের শোকরকারী। আল্লাহ তাকে বাছাই করলেন এবং সরল সঠিক পথ দেখালেন। দুনিয়ায় আমি তাকে কল্যাণ দান করলাম এবং আখেরাতে সে নিশ্চিত সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’

হজরত ইবরাহিম (আ.) নিঃসন্তান ছিলেন। আল্লাহর অনুগ্রহে তিনি বৃদ্ধ বয়সে সন্তান লাভ করেন। যার নাম হজরত ইসমাইল (আ.) । হজরত ইসমাইল যখন কৈশোরে উন্নীত হোন তখন তার পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.) স্বপ্নে হজরত ইসমাইল (আ.) কে কোরবানি করার আদেশ প্রাপ্ত হন। পরে যখন তিনি ছেলে ইসমাইলকে স্বপ্নের কথা বলেন, তখন তিনি বিনীতভাবে পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.) কে বলেন, ‘প্রিয় বাবা! আপনাকে যা আদেশ করা হয়েছে তা আপনি সম্পাদন করুন। আমাকে ধৈর্যশীলদের সঙ্গে পাবেন।’ সুরা আস সাফফাত : ১০২

হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহর হুকুম পালনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করলেন এবং পুত্র হজরত ইসমাইল (আ.) কে কোরবানির উদ্দেশ্যে মক্কার অদূরে মিনা প্রান্তরে উপস্থিত হন। নানাভাবে হজরত ইসমাইল (আ.)-এর গলায় ছুরি চালান পিতা হজরত ইবরাহিম (আ.)। একপর্যায়ে দেখেন হজরত ইসমাইল (আ.)-এর বদলে একটি দুম্বা জবেহ হয়ে পড়ে আছে।

ইসলামি স্কলাররা বলেন, কোরবানির ঘটনায় হজরত ইবরাহিম (আ.) আল্লাহতায়ালার প্রতি আনুগত্যের যে উপমা পেশ করেছেন, মহান আল্লাহ মিল্লাতে ইবরাহিমের জন্য ওয়াজিব ইবাদত হিসেবে স্মরণীয় করে রাখলেন। এ প্রসঙ্গে এরশাদ হচ্ছে, ‘মনে রেখো, এ ছিল এক সুস্পষ্ট পরীক্ষা। আমি তাকে সুযোগ দিলাম এক মহান কোরবানির। পুরো বিষয়টি স্মরণীয় করে রাখলাম প্রজন্মের পর প্রজন্ম। ইবরাহিমের প্রতি সালাম। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করি।’ সুরা সাফফাত : ১০৬-১১০

উম্মতে মুহাম্মদি হিসেবে আমাদের জন্য কোরবানির গুরুত্ব অপরিসীম। এ বিষয়ে হজরত আয়েশা (রা.)-এর সূত্রে বর্ণিত এক হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোরবানির দিন মানুষ যে কাজ করে তার মধ্যে আল্লাহর কাছে সবচেয়ে পছন্দনীয় হলো রক্ত প্রবাহিত করা তথা কোরবানি করা।’

হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য এক হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘কোরবানি করার সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি কোরবানি করে না, সে যেন আমাদের ঈদগাহের কাছেও না আসে।’

বুজুর্গ আলেমরা বলেন, কোরবানির সময় বাহ্যিকভাবে পশু জবাইয়ের সঙ্গে সঙ্গে নিজ মনে বাস করা পশুত্বকেও কোরবানি দিতে হবে। কোরবানির পশুর গোশত নিজে খাওয়ার পাশাপাশি, অসহায়-দরিদ্র, পাড়া-প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন বিশেষ করে যারা কোরবানি দিতে পারেনি তাদের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়া উত্তম। এর ফলে ঈদের আনন্দ সবাই অনুভব করার সুযোগ পাবে।

আমরা জানি, ঈদ এলে সবার মনে আনন্দের ঝরনা প্রবাহিত হয়। কিন্তু ‘আর্থিকভাবে যারা সচ্ছল নয়, তারা নানা ধরনের মনোযাতনায় ভোগেন। তাই ঈদের আনন্দ ছড়িয়ে দিতে সচ্ছলদের, সম্পদশালীদের ভূমিকা রাখা দরকার। এটা তো ইসলামি ভ্রাতৃত্ববোধ, ইসলামের শিক্ষা।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
তজুমদ্দিনে ইয়াবাসহ দুই বিক্রেতা আটক ॥
নিজ অর্থায়নে রোজিনার লেখাপড়া ও ঘর নির্মাণের দায়িত্ব নেন এমপি মুকুল।
নাসরিন ট্রাজিটির ১৮ বছর পূর্ণ।।ভোলার ইতিহাসে ভয়াবহ একটি দিন।
লকডাউনে বিপর্যস্ত নিম্ন আয়ের মানুষ
তজুমদ্দিনে তিন এজেন্টকে তিনদিন করে কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।
খোঁজ মিলেছে আলোচিত বক্তা আবু ত্ব-হা মুহাম্মদ আদনানের
লালমোহনে স্বেচ্ছাশ্রমে জরাজীর্ণ লাইব্রররিকে সাজিয়েছে শিক্ষার্থীরা
ভিক্ষা নয়, কাজ করে খেতে চায় রোকসানা ॥ বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা
ভোলায় মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
স্রোতধারা সৃজন শক্তি’র ২য় প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী অনুষ্ঠিত