ভোলাবাণী ডেক্স।। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, “দেশকে এমন একটি শক্তিশালী ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে চাই—যাতে আর কোনো ফ্যাসিবাদ কিংবা তাবেদার অপশক্তি মানুষের স্বাধীনতা কেড়ে নিতে না পারে।”

শনিবার সকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মসজিদের ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও অন্যান্য ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের মাসিক সম্মানী প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমি বারবার একটি কথা বলি—নাগরিকদের দুর্বল রেখে রাষ্ট্র কখনো শক্তিশালী হতে পারে না।” তিনি আরও বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষ তথা দেশের প্রতিটি নাগরিকের আর্থিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার রাষ্ট্রীয় সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে কাজ করবে।
তিনি বলেন, নাগরিকদেরও রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব রয়েছে। সবাই নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করলে খুব দ্রুতই বাংলাদেশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তারেক রহমান বলেন, “অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ রাষ্ট্র মানুষের জীবনে আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে পারে। কিন্তু ধৈর্য, সততা, কৃতজ্ঞতা, শ্রদ্ধা, আনুগত্য, সংহতি, সহনশীলতা, উদারতা, বন্ধুত্ব, বিনয় ও দায়বদ্ধতার মতো মানবিক গুণাবলী অর্জন ছাড়া একজন মানুষ পূর্ণাঙ্গ হয়ে উঠতে পারে না।”
তিনি আরও বলেন, এসব মানবিক গুণাবলী অর্জনের জন্য ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধে উজ্জীবিত হওয়া জরুরি। রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবেশ-প্রতিবেশ থেকে অর্জিত আচরণ থেকেই মানুষ শুদ্ধ জীবন ও সুস্থ চিন্তার দিকনির্দেশনা পায়।
ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মসজিদ বা উপাসনালয়ে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কেউ যদি বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত হতে চান, তাহলে তাদের সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সরকার সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
তিনি জানান, প্রতিটি জেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সভায় একজন ইমাম, খতিব বা ধর্মীয় প্রতিনিধিকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে।
সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতির বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমরা আজ সব ধর্মের মানুষ একসঙ্গে বসেছি, এক কাতারে রয়েছি—এটাই আমাদের আবহমানকালের ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশ। কেউ যেন আমাদের মধ্যে বিভেদ বা বিরোধ সৃষ্টি করতে না পারে।”
বাংলাদেশ সময়: ১৪:২৮:৫৬ ৩৩১ বার পঠিত | তারেক রহমানপ্রধানমন্ত্রী