ভোলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন, সবচেয়ে দুর্ভোগে চরাঞ্চলবাসী

প্রথম পাতা » আজকের আবহাওয়া » ভোলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন, সবচেয়ে দুর্ভোগে চরাঞ্চলবাসী
বুধবার, ৭ জানুয়ারী ২০২৬



খলিল উদ্দিন ফরিদ॥ ভোলাবাণী

জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে দেশের আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধারা বদলে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় চলতি মৌসুমে দ্বীপজেলা ভোলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ধীরে ধীরে তীব্র রূপ ধারণ করেছে। ঘন কুয়াশা, সূর্যহীন দিন ও হিমেল বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে উপকূলীয় এ জেলার জনজীবন। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের ছিন্নমূল ও নিম্নআয়ের মানুষ।

 

---

গত দুই সপ্তাহ ধরে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঘন কুয়াশায় ঢাকা থাকছে চারপাশ। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মানুষ ঘর থেকে বের হচ্ছেন না। নির্বাচনকালীন সময় চললেও শহর ও গ্রামাঞ্চলের হাটবাজারে আগের মতো ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন দিনমজুর, জেলে ও হতদরিদ্র মানুষ।

বিশেষ করে ভোলার চরাঞ্চল ও বেড়িবাঁধসংলগ্ন নদীবেষ্টিত এলাকাগুলোর পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ। ভোলা সদর, চরফ্যাশন, মনপুরা, তজুমদ্দিন, দৌলতখান ও বোরহানউদ্দিন উপজেলার বিভিন্ন চরে বসবাসরত লক্ষাধিক নিম্নআয়ের মানুষ শীত মোকাবিলায় চরম দুর্ভোগে রয়েছেন। শীতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ। শিশু ও প্রবীণদের মধ্যেই এসব রোগে আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

ভোলা জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানায়, নিউমোনিয়া, অ্যাজমা, কোল্ড অ্যালার্জি ও ডায়রিয়াসহ শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয়ে গত কয়েক দিনে কয়েকশ নারী, পুরুষ ও শিশু জেলার বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চরফ্যাশনের ঢালচর, চর কুকরি-মুকরি, চর মাদ্রাজ, চর নিজাম, চর শাহজালাল ও চর কলাতলীসহ বিভিন্ন এলাকার ঝুপড়ি ঘরে উত্তরের হিমেল বাতাস সরাসরি ঢুকে পড়ছে। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় রাত কাটানোই কঠিন হয়ে পড়েছে।

ভোলা সদর উপজেলার চরকালীর বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, “দিন আনি দিন খাই। পুরোনো একটা সোয়েটার আর পাতলা কাঁথা দিয়েই কোনোভাবে রাত পার করছি।”
তজুমদ্দিন উপজেলার চর নাসরিনের বাসিন্দা বৃদ্ধা আয়শা খাতুন বলেন, “শীত এলে অন্য জায়গায় কম্বল দেওয়া হয়। কিন্তু চরের মানুষ সব সময় অবহেলিত। এখন ভোটের সময় হলেও কেউ খোঁজ নিতে আসে না।”

ভোলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মো. মাহবুবুর রহমান জানান, গত বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) জেলায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সোমবার (৫ জানুয়ারি) তা ছিল ১২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল প্রায় ৯০ শতাংশ। আগামী কয়েক দিন এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে বলেও জানান তিনি।

এদিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম শুরু হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল বলে অভিযোগ চরাঞ্চলবাসীর।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা সৈয়দ মো. আজিম উদ্দিন জানান, এ বছর প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ১৩ হাজার পিস শীতবস্ত্র বরাদ্দ পাওয়া গেছে এবং বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

চরাঞ্চলের বাসিন্দারা দ্রুত পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র, চিকিৎসাসেবা ও জরুরি সরকারি সহায়তার দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে তীব্র শীতে এই দুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৪৯:৪৯   ৪৫ বার পঠিত  |




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আজকের আবহাওয়া’র আরও খবর


ভোলায় তীব্র শৈত্যপ্রবাহে বিপর্যস্ত জনজীবন, সবচেয়ে দুর্ভোগে চরাঞ্চলবাসী
কেমন থাকবে আজকের আবহাওয়া

আর্কাইভ