ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় চলছে বাগদার রেণু শিকারের মহোৎসব

প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় চলছে বাগদার রেণু শিকারের মহোৎসব
মঙ্গলবার, ১৪ মে ২০২৪



খলিল উদ্দিন ফরিদ।।ভোলা জেলা প্রতিনিধি।।

নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে অবাধে চলছে অবৈধ বাগদা ও গলদা চিংড়ির রেণু শিকারের মহোৎসব। মৎস্য বিভাগের তেমন অভিযান না থাকায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে মৎস্য শিকারীরা।
শিকারীদের নিষিদ্ধ জালে বাগদা-গলদার রেনুর সঙ্গে উঠে আসছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণুও। এতে করে প্রতিদিনই ধ্বংস হচ্ছে প্রায় এক কোটি বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণু।

ভোলার মেঘনা-তেঁতুলিয়ায় চলছে বাগদার রেণু শিকারের মহোৎসব

সরেজমিনে দেখা গেছে, নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ভোলা সদর উপজেলার তুলাতুলি পয়েন্টের মেঘনা নদীতে দলবেঁধে অবাধে অবৈধ বাগদা ও গলদার রেণু শিকারে ব্যস্ত জেলেরা। নিষিদ্ধ মশারি ও নেট বেহুন্দী জাল দিয়ে নদী থেকে তারা শিকার করছেন বাগদা ও গলদার রেণু। আর চিংড়ির রেণুর সঙ্গে ওই জালে উঠে আসছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছের রেণুও। শিকারীরা বাগদা ও গলদার রেণু বেছে বেছে পাত্রে রেখে ফেলে দিচ্ছেন অন্যান্য প্রজাতির মাছের রেণুগুলোকে। এতে করে প্রতিদিনই বাগদা ও গলদা রেণুর সঙ্গে ধ্বংস হচ্ছে অন্যান্য প্রজাতির কোটি কোটি মাছের রেণু।

শুধু তুলাতুলি নয়, বোরহানউদ্দিন ও দৌলতখান উপজেলাসহ জেলার সাত উপজেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতিদিনই বাগদা-গলদা রেণু শিকারের মহোৎসব চলছে।

ভোলা চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বাগদা ও গলদা রেণু শিকারী সামছুদ্দিন,মোঃআমির আলী,আঃখালেক মাঝি জানান, তারা মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকার করেন। প্রতি বছর এ সিজনে তারা নদীতে বাগদা ও গলদার রেণু শিকার করেন। এটি শিকারের কাজে ছোট মশারি ও নেট বেহুন্দী জাল ব্যবহার করেন। প্রতিদিন তারা একেক জন ৭০০-১০০০ পিস বা তারাও অধিক বাগদা ও গলদার রেণু শিকার করে থাকেন। প্রতি পিস রেণু তারা ব্যাপারীদের কাছে দেড় টাকা করে পিস বিক্রি করে থাকেন।

দক্ষিন আইচা থানার তেঁতুলিয়া পাড়ের বশির মাঝি,সামছুদ্দিন,ও আহিদ মাঝি জানান, তাদের জালে বাগদা ও গলদার রেণুর সঙ্গে অন্যান্য মাছের রেণুও উঠে আসে। তারা বাগদা ও গলদার রেণু বেছে অন্যান্য মাছের রেনু ফেলে দেন।

তারা আরও জানান, রেণুর সিজনে সবাই কম বেশি ব্যাপারীদের কাছ থেকে ১০-৩০ হাজার টাকা দাদন এনেছেন। আর বাগদা ও গলদার এসব রেণু তাদের কাছ থেকে ব্যাপারীরা কিনে নিয়ে বিভিন্ন হাত ঘুরে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরার পাইকারি আড়তে বেশি দামে বিক্রি করেন।

ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, বছরের এপ্রিল, মে ও জুন মাস নদীতে বাগদা ও গলদা রেণু ছড়িয়ে পড়ে। আর কিছু অসাধু জেলে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নদী থেকে অবৈধভাবে বাগদা ও গলদার রেণু শিকার করেন। তাদের বিরুদ্ধে মৎস্য বিভাগ অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন বলে দাবি করেন তিনি।

বাংলাদেশ সময়: ১০:২৫:০৩   ৮৭ বার পঠিত  |




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

প্রধান সংবাদ’র আরও খবর


চরফ্যাসনে দূর্গতদের ঘরে ঘরে শুকনো খাবার নিয়ে হাজির ইউএনও
দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে মনপুরায় বিতর্ক প্রতিযোগীতা অনুষ্ঠিত ॥
লালমোহনে ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ঘরচাপায় বৃদ্ধার মৃত্যূ
ঘূর্ণিঝড় রেমালে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে যাবেন প্রধানমন্ত্রী
ঘূ‌র্ণিঝড় ‘‌রিমাল’ এর প্রভাবে ভোলার সকল রুটে লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা
মনপুরায় জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা সপ্তাহ পালিত
ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে দেশজুড়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট সিরিজরেকর্ড গড়া জয়ে হোয়াইটওয়াশ এড়ালো বাংলাদেশ
ভারতীয় জ্যোতিষীর মত জুনেই তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরু
চরফ্যাশনে মোটরসাইকেল কেড়ে নিল ২ যুবকের প্রাণ

আর্কাইভ