শিরোনাম:
ভোলা, বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ১ বৈশাখ ১৪২৮

Bholabani
মঙ্গলবার ● ১১ আগস্ট ২০২০
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » ঘুরে আসুন পর্যটনের অপার সম্ভবনাময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সী-বিচ আর হরিণের চারনভূমি খ্যাত মনপুরা।
প্রথম পাতা » প্রধান সংবাদ » ঘুরে আসুন পর্যটনের অপার সম্ভবনাময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সী-বিচ আর হরিণের চারনভূমি খ্যাত মনপুরা।
৫৬ বার পঠিত
মঙ্গলবার ● ১১ আগস্ট ২০২০
Decrease Font Size Increase Font Size Email this Article Print Friendly Version

ঘুরে আসুন পর্যটনের অপার সম্ভবনাময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সী-বিচ আর হরিণের চারনভূমি খ্যাত মনপুরা।

মোঃ ছালাহউদ্দিন।।ভোলা বাণী।। মনপুরা প্রতিনিধি ॥

বাংলাদেশের বৃহওম দ্বীপ ভোলা জেলার মুল ভুখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন প্রাকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্যের সী-বিচ আর হরিণের চারনভুমি খ্যাত রূপালী দ্বীপ মনপুরা । জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চিন্তানিবাস গড়ার স্বপ্ন মনপুরা । রাক্ষুসে মেঘনার কোলে লালিত চর্তুদিকে মেঘনা নদীবেষ্টিত সবুজ শ্যামল ঘেরা অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাভূমি মনপুরা। সু বিশাল নদী-নালা ,চতুর্দিকে বেড়ীবাঁধ,,বিভিন্ন ধরনের ধানের ক্ষেত, বিশাল ম্যানগ্রোভ প্রজাতির গাছের বাগনে সমৃদ্ব মনপুরা।

কলাতলির চর ,মনপুরা।

মনপুরা উপজেলা দেশের অন্যান্য অঞ্চলের মানুষের কাছে যেমন আকর্ষণীয় ও দর্শনীয় জায়গা তেমনি বিদেশীদের কাছেও। যেসব জেলার বা বিভাগের লোকজন মনপুরা ভ্রমনে বা কাজের জন্য এসেছেন বা অবস্থান করেছেন এখানকার মানুষকে দেখে মুগ্ধ হয়েছেন এবং ভালবেসেছেন। এখানে না আসলে বোঝাই যাবেনা সবুজের দ্বীপ মনপুরায় কি সৌন্দর্য লুকায়িত আছে। পর্যটনের কি অপার সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে পুরানো এ দ্বীপে। পর্যটক আর ভ্রমন পিপাসু মানুষকে মুগ্ধতার বন্ধনে আটকে দেওয়ার বহু উপকরন রয়েছে এ দ্বীপে ।

 

 

এখানে সকাল বেলার সুর্য যেমন হাঁসতে হাঁসতে পুর্বদিকে ডিমের লাল কুসুমের মত উদিত হতে দেখা যায়, তেমনি বিকেল বেলাতেও আকাশের সিঁড়ি বেয়ে লাল আভা ছড়াতে ছড়াতে পশ্চিম আকাশে মুখ লুকায়। মনপুরাতে এসেই কেবল সুর্যোদয় ও সুর্যাস্থ প্রত্যক্ষ করা যায়। মনপুরা এখন নতুনভাবে গড়ে উঠেছে মনপুরা সী-বীচ। যা পর্যটকদের বাড়তি আকর্ষন।ভোলা জেলা সদর থেকে ৮০ কিলোমিটার দক্ষিন পুর্ব দিকে বঙ্গোপসাগরের কোলঘেষে মেঘনার মোহনায় ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত মনপুরা উপজেলা প্রায় দেড় লক্ষাধিক লোকের বসবাস। মিয়া জমিরশাহ’র স্মৃতি বিজড়িত মনপুরা দ্বীপ অতি প্রাচীন। একসময় এ দ্বীপে পুর্তগীজদের আস্থানা ছিল। তারই নিদর্শন হিসেবে দেখতে পাওয়া যায় কেশওয়ালা কুকুর। মনপুরার সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হচেছ ম্যনগ্রোভ প্রজাতির সারিসারি বাগান। মনপুরায় ছোট বড় ৮-১০ টি চর ও বন বিভাগের প্রচেষ্টায় গড়ে উঠেছে সবুজ বিপ্লব। মাইলের পর মাইল সবুজ বৃক্ষরাজির বিশাল ক্যাম্পাস মনপুরাকে সাজিয়েছে সবুজের সমারোহে। শীত মৌসুমে শতশত পাখির কলকাকলিতে মুখরিত থাকে এসব চরাঞ্চল। এই চরগুলো হলো চরতাজাম্মুল,চর পাতালিয়া,চর পিয়াল,চরনিজাম,চর সামসুউদ্দিন,লালচর,ঢাল চর,কলাতলীর চর ইত্যাদি।

এখানে শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যই দেখা যায়না । এখানে খাবারের রীতিমত আইটেম ছাড়াও বিশেষ বিশেষ কিছু খাবার লক্ষ করা যায়। শীতের হাঁস, মহিষের কাচা দধি,টাটকা ইলিশ,বড় কই,জাগুর, কোরাল,বোয়াল ও গলদা চিংড়ি। মেঘনা নদী থেকে ধরে আনা টাটকা ইলিশ ও চর থেকে আনা কাঁচা দুধের স্বাদই আলাদা।

প্রাকৃতিক অপরুপ সৌন্দর্যের সী-বিচ,মনপুরা।

ঐতিহাসিক বেভারিজ মনপুরার নামকরন নিয়ে লিখেছেন, জনৈক মনগাজি নামের ব্যক্তি সে সময়ের জমিদার থেকে মনপুরা জমি লিজ নেন অষ্ঠাদশ শতাব্দীর মধ্য যুগে । তখন তার নামানুষারে এ দ্বীপের নাম করন হয় মনপুরা। জনৈক ব্যক্তিদের মতে মনগাজি নামের লোকটি বাঘের থাবায় প্রাণ হারালে তখন তার নামানুষারে নাম করন করা হয় মনপুরা। স্থানীয়দের মতে এখানকার খাটি দুধ খেয়ে ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরূপ লীলা দেখে মানুষের মন ভরে যেত। এজন্য এর নামকরন করা হয় মনপুরা। তবে মনপুরার নামকরন নিয়ে এখনও মতবিরোধ রয়েছে।১৮৩৩ সালে মনপুরাকে ভোলা জেলার অধীনে চিরস্থায়ী বন্ধোবস্ত দেওয়া হয়। ১৯৮৩ সালে মনপুরাকে উপজেলায় উন্নীত করা হয়। এভাবে এগিয়ে যায় আজকের মনপুরা। আয়তন ৩৭ হাজার ৩১৯ বর্গ মিটার। ইউনিয়ন ৪টি ,গ্রাম ৩৮ টি,জনসংখ্যা প্রায় দেড় লক্ষাধিক। কৃষি জমি ৩০ হাজার ৫০৪ একর,বনায়ন ১১ হাজার ১১৯ বর্গমিটার,রাস্তার দু পাশে বনায়ন ১০০ কিলোমিটার ,সর্ব মোট রাস্তা ৫৬৬ কিলোমিটার। সরকারী প্রথমিক বিদ্যালয় ৪৩ টি,মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৭টি,নিম্ম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১টি,নিন্ম বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১টি,মাদ্রাসা ৬টি,কলেজ ২ টি ,আলিম ১টি ও ফাজিল মাদ্রাসা ১টি ।

যোগাযোগ ব্যাবস্থা প্রধান সমস্যা হলেও এখন উন্নতির দিকে। মন চাইলে যে কেউ মনপুরা আসতে বা যেতে পরবেনা। এখানে যোগাযোগ ব্যবস্থা পরিচালিত হচেছ রুটিন মাফিক। প্রতিদিন ঢাকা থেকে একটি লঞ্চ বিকাল সাড়ে ৫টা ,আরেকটি লঞ্চ সাড়ে ৬ টায় হাতিয়ার উদ্দেশ্যে ছেড়ে মনপুরা হয়ে পরদিন সকাল ৯টার সময় হাতিয়া পৌছে। ঐ লঞ্চ ২টি আবার হাতিয়া থেকে ছাড়ে দুপুর ১২ টায় আরেকটি ১টায়। মনপুরাতে আসে দুপুর ১ টায় আরেকটি ২টায় এবং ১ ঘন্টা যাত্রা বিরতি থাকে রামনেওয়াজ লঞ্চঘাটে। মনপুরার মানুষ যে লঞ্চে করে ঢাকার থেকে মনপুরা আসেন আবার ঐ লঞ্চে করে ঢাকায় চলে যান।

এছাড়া ঢাকা কিংবা বরিশাল থেকে ভোলা হয়ে তজুমুদ্দিন সি-ট্রাক ঘাট থেকে মনপুরা যাওয়া যায়।সী-ট্রাকটি প্রতিদিন সকাল ১০ টায় মনপুরা হাজীর হাট ঘাট থেকে ছেড়ে দুপুর ১২টায় তজুমদ্দিন সীট্রাক ঘাটে পৌছে। আবার ঐ দিন বিকেল ৩ টায় তজুমদ্দিন সী-ট্রাক ঘাট থেকে ছেড়ে সন্ধা ৬ টায মনপুরা হাজীর হাট সী-ট্রাক ঘাটে পৌছে।

 

অপরদিকে চরফ্যাশনের বেতুয়া ঘাট থেকে মনপুরার সাকুচিয়া জনতা বাজার রুটে দৈনিক ২ টি লঞ্চ চলাচল করে।এছাড়া প্রতিদিন সাকুচিয়া থেকে রামনেওয়াজ হয়ে আলেকজান্ডারের উদ্দেশ্যে একটি লঞ্চ যাত্রা করে।ঐ রুটে দৈনিক শতশত মানুষ যাতায়াত করে।মনপুরাতে ভালোমানের পর্যটন হোটেল গড়ে উঠেছে। সরকারীভাবে জেলাপরিষদের অর্থায়নে আধুনিক ৪ তলাবিশিষ্ট ডাকবাংলো রয়েছে। বেসরকারীভাবে তজুমদ্দিন রুটে এবং চরফ্যাশন মনপুরা রুটে স্পীড বোট সার্ভিস চালু আছে। পর্যটকরা কম সময়ে মনপুরা আসতে পারবেন। মনপুরায় ভাল মানের আরো হোটেল গড়ে উঠলে পর্যটকদের অগমন বাড়বে,প্রয়োজনীয় সুযোগ সুবিধার ব্যাবস্থা করলে মনপুরা হতে পারে দেশের অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।

মনপুরার মানুষ সহজ সরল প্রকৃতির। জাতি,ধর্ম,বর্ন,গোত্র সবাই মিলেমিশে একাকার হয়ে বসবাস করে। এখানকার মানুষ অতিথি পরায়ন। অতি অল্প সময়ের মধ্যে যে কাউকে আপন করে নেয়। এখানকার মানুষ কৃষি ও মৎস্য সম্পদের উপর নির্ভরশীল। মনপুরার শতকরা ৮০% লোক কৃষক ও মৎস্যজীবি।

হরিণের চারনভুমি খ্যাত রূপালী দ্বীপ মনপুরা ।

রুপালী সৌন্দর্যের দ্বীপ মনপুরার কয়েকজন বিশিষ্ট ব্যাক্তি ও প্রশাসনের সাথে আলাপ হয় মনপুরায় পর্যটন সমস্যা ও সম্ভবনা নিয়ে। মনপুরা ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম,শিক্ষাবিদ একেএম শাহজাহান,মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ ভুইয়া জানান,এখানকার অপার সম্ভাবনা নিয়ে মানুষ তেমন ভাবছেননা। এখানকার অধিকাংশ মানুষ গরীব। তাছাড়া শিক্ষা-দীক্ষায় পিছিয়ে থাকার কারনে এ দ্বীপের মূল স্রোত থেকে অনেক দুরে। উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসলে এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলা স¤ভব।
উপজেলা আ’লীগ সাধারন সম্পাদক মোঃ জাকির হোসেন জানান,মনপুরাকে নদী ভাঙ্গনের হাত থেকে রক্ষা করার পাশাপশি সরকারী ও বেসরকারী উদ্যোগের বিনোদনের ব্যাবস্থা করলে মনপুরা হতে পারে আদর্শ পর্যটন কেন্দ্র।মনপুরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের দায়িত্বে থাকা চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ রুহুল আমিন বলেন,,এ দ্বীপটি ভোলা জেলার মূল ভূখন্ড থেকে বিচ্ছিন্ন হলেও নানা উপকরন ছড়িয়ে আছে এ দ্বীপে। মনপুরার অবকাঠামোগত সুযোগ সুবিধা,ভাল মানের হোটেল,যোগাযোগ ব্যাবস্থার উন্নতিসহ বিভিন্ন সুবিধা বাড়াতে পারলে মনপুরা হতে পারে পর্যটকদের দর্শনীয় স্থান।

মনপুরা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগ সভাপতি শেলিনা আকতার চৌধুরী জানান,একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আমার একটি স্বপ্ন মনপুরাকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা। আমরা আমাদের এমপি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকব এমপির সাথে সমন্বয় করে পর্যটনের জন্য কাজ করে যাচ্ছি। মনপুরা পর্যটকদের আকৃষ্ট করার মতো অনেক উপকরন রয়েছে।





আর্কাইভ

পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)
একজন আলোকিত মানুষ মুহাম্মদ শওকাত হোসেন
২ মাস নিষেধাজ্ঞা, জাল বুনে ব্যস্ত সময় পার করছেন জেলেরা
আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় তরমুজের বাম্পার ফলন
মনপুরা দখিনা হাওয়া সি-বিচ পর্যটনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন
কামরুল আহসান চৌধুরী’র চেয়ারম্যান হওয়ার গল্প
শশীভূষনে একটি ব্রীজের অভাবে চরম দুর্ভোগে হাজারো মানুষ।।ঝূকিপূর্ন সাঁকো পারাপাড়
আগামীকাল শুরু হতে যাচ্ছে একুশে বইমেলা-২০২১
মনপুরায় নারী দিবসে লাল সবুজ সোসাইটির ব্যতিক্রমধর্মী আয়োজন
তৃতীয়বারের মতো ভোলা পৌরসভার মেয়র হলেন নৌকা প্রতীকের মনিরুজ্জামান
সংসদ সদস্য পদ হারালেন কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল